ঠাকুরগাঁও-১ (সদর-রুহিয়া-ভুল্লী) আসনের উপ-নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বাড়ছে। উভয় দলই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে, যার মধ্যে প্রচারে বাধা, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা, ভোটারদের প্রভাবিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনী তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় কমিটি প্রার্থীদের কাছে এসব অভিযোগের কিছু ব্যাখ্যা চেয়েছে।
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সভাপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই।
অন্যদিকে জামায়াতের হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন দেলোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বর্তমানে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে ১৩ অক্টোবর রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া মসজিদে এশার নামাজের পর সড়কে গণসমাবেশ করতে গেলে জামায়াতের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দেয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।
দেলাওয়ার হোসেনের নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ আলমগীর এ ঘটনাকে আচরণবিধি লঙ্ঘন উল্লেখ করে ১৩ অক্টোবর নির্বাচনী তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এদিকে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিনের নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রচারণার উপাদান নষ্ট করার অভিযোগ করেছেন। গত ১৬ অক্টোবর নির্বাচনী তদন্ত ও বিচারিক কমিটির কাছে দাখিল করা অভিযোগে তিনি অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার জগন্নাথপুরের খরকুটুর মোড়ে টাঙানো ধানের শীষের ব্যানার কেটে ফেলা হয়েছে।
পরদিন ১৭ অক্টোবর ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের ব্যানার ছিঁড়ে ও বিএনপি প্রার্থীদের ছবি বিকৃত করার অভিযোগ ওঠে।
এসব ঘটনায় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এর আগে, 14 অক্টোবর পয়গাম আলী জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার এবং ধর্মীয় ভোটারদের উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ করেছিলেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় কমিটি দেলোয়ার হোসেনকে ১৯ অক্টোবর হাজির হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়।
এর আগে ৯ অক্টোবর জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বিএনপি প্রার্থী ফয়সাল আমিনের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ফয়সাল আমিন গণযোগাযোগের সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
তিনি এটিকে ভোটারদের প্রলুব্ধ করার অভিযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
এ অভিযোগের পর ১৩ অক্টোবর নির্বাচনী তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় কমিটি দেলোয়ার হোসেনকে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ দাখিলের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ১৫ অক্টোবর ফয়সাল আমিনকে অভিযোগের ব্যাখ্যা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়।
পরে ১৭ অক্টোবর মির্জা ফয়সাল আমিনের প্রতিনিধি ইন্তাজুল হক অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন। কমিটি পরে অভিযোগের স্বপক্ষে দাখিল করা ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে এ ঘটনা ঘটেছে। ফলে ওই অভিযোগ থেকে খালাস পান বিএনপি প্রার্থী।
এ ব্যাপারে বিএনপি প্রার্থীর মোবাইল ফোনে ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন এজেন্ট পয়গাম আলী বলেন, ‘সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কোনো উসকানিতে লিপ্ত নই। জামায়াতের প্রার্থীরা এখন নিশ্চিত দাঁড়িপাল্লা বুঝে ভোটের আগে মাঠ ছাড়ার কৌশল খুঁজছেন। এ কারণে তারা বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি দাবি করেন, ভোটাররা তাদের পাশে আছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘জোয়ারের জোয়ার দেখে বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আমাদের কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জন্য আমরা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি যাতে আমরা কোনো বাধা ছাড়াই আমাদের প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের চাঁদাবাজি, আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভোটাররা রায় দেবেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। কোথাও কোনো সমস্যা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ অক্টোবর এই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।