ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুরে এক ব্যক্তি তার বাড়িওয়ালার সঙ্গে ভাড়া আদায় নিয়ে ঝামেলায় পড়েছিলেন। এরপর ভাড়া বাসায় ৫০০ টাকার জাল নোট ছাপানো শুরু করে ওই ব্যক্তি! রোববার (২৫ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বাড়ি ভাড়া না দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন ভাড়াটিয়া। শেষপর্যন্ত বাড়ির তালা ভাঙলে বিষয়টি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৫০০ টাকার নোটের মোট মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে উথোরা এলাকার ওই বাড়িতে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন পুষ্পক কৃষ্ণ ভান্ডারকর ওরফে বেন্ডেন নামে এক যুবক। সন্দেহ হলে শনিবার বাড়িওয়ালা রমেশ হাতুড়ি দিয়ে ঘরের দরজার তালা ভেঙে দেন। ঘরে ঢুকে সে অবাক! একটি বালতিতে নোটের বান্ডিল, চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাগজ এবং একটি প্রিন্টার বা প্রিন্টিং মেশিন দেখে তিনি চমকে উঠলেন। সঙ্গে সঙ্গে উথোরা থানায় খবর দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের একটি দল ৫০০ টাকার জাল নোটের ব্যাগ উদ্ধার করে।
নোট কাউন্টিং মেশিন নিয়ে এসে দেখা গেল সেখানে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকার জাল নোট ছাপা হয়েছে। এছাড়াও, বেশ কয়েকটি অর্ধ-মুদ্রিত নোট এবং সরঞ্জাম – একদিকে মুদ্রিত কিন্তু অন্য দিকে ফাঁকা – উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামাল ও নোটের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
জানা গিয়েছে, পুষ্পক নাগপুরের ত্রিমূর্তি নগরের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে খারবি এলাকায় বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল মূল অভিযুক্ত পুষ্পক। গত জানুয়ারিতে তার ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এছাড়া কয়েক মাস ধরে বাড়ি ভাড়াও পরিশোধ করছেন না।
পুষ্পক সেপ্টেম্বর মাসে বাড়িওয়ালাকে বাড়ি খালি করতে বললে ছুরি দিয়ে হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর বাড়িওয়ালা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এদিকে পুষ্পক বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে মুম্বাইয়ে অবস্থান করছেন। তাকে ধরতে শীঘ্রই পুলিশের একটি বিশেষ দল মুম্বাইতে পাঠানো হচ্ছে, পুলিশ জানিয়েছে।