সরকারি পদে নিয়োগের পর প্রস্তাবিত পদকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সরজিস আলম ও গণঅধিকার কাউন্সিলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসানের মধ্যে তুমুল কথার যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ফারুক হাসানকে বিদ্যুৎ অধিদপ্তরের পূর্বাঞ্চল পরিচালক হিসেবে নিয়োগের পর ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সরজিস আলম। এর জবাবে মধ্যরাতে পাল্টা স্ট্যাটাস দিয়ে সারগিসের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাকে রাজনীতি ছেড়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন ফারুক হাসান।
সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান লিখেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক সরজিস আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকরা সরকারের গ্রেডেড আমলা নন। এটা বুঝতে বা জানার জন্য আপনার পিএইচডির দরকার নেই, শুধু সাধারণ জ্ঞান। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থাকা সর্গের এই সাধারণ জ্ঞানের অভাব আশ্চর্যজনক।
ফারুক হাসান তার স্ট্যাটাস নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্জিসের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের ব্যানারে অনেকে পরীক্ষা ছাড়াই অবৈধ পন্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সরজিস আলমও একই পথ অনুসরণ করেছেন কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় থাকা স্বাভাবিক। এ কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত সার্গিসের ভর্তির সময় সব কাগজপত্র পুনরায় যাচাই করা।
কঠোর ভাষায় সমালোচনার পর সারজিস আলমকে রাজনৈতিক পরামর্শ দেন গণঅধিকার পরিষদের এই প্রবীণ নেতা। তিনি সারগিসকে আপাতত রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করার এবং তার পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন, যা ভবিষ্যতে তাকে ভালভাবে কাজ করবে। ফারুক হাসানের নিয়োগকে ঘিরে সৃষ্ট এই বিতর্কিত ফেসবুক স্ট্যাটাস রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।