চট্টগ্রামের উত্তর ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামে নিখোঁজ হওয়ার ১৩ ঘণ্টা পর তিন বছরের শিশু হালিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে প্রতিবেশী আব্দুল আউয়ালের বাড়ির শেলফের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল আউয়াল (৬৫), তার স্ত্রী আসমা বেগম (৫৫) ও ছেলে রবিউলকে (১৬) আটক করেছে পুলিশ।
নিহত হালিমা ওই গ্রামের কৃষক দম্পতি নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তারের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ভূজপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে নিখোঁজ হন হালিমা। পরিবারের লোকজন আশপাশের এলাকা ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি। পরে মসজিদের মাইক্রোফোনে শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রচার করা হয়।
একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে খোঁজ শুরু করে। পরে প্রতিবেশী আব্দুল আউয়ালের বাড়ির একটি তাক থেকে হালিমার লাশ উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির মা রাশেদা আক্তার জানান, তার মেয়েকে হত্যা করে প্রতিবেশীর বাড়ির শেলফের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তার মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন রাশেদা।
শিশুটির বাবা নাছির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, জমি নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল আউয়ালের পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার মেয়েকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি করে প্রতিবেশীর বাড়ির শেলফের নিচ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, শিশুটির মাথায় ও কপালে সামান্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।