নাকল-প্যান্টের নকশায় ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ২

7429112411e68e418e98a960ba7f8abe 6acf984ee06ce 7429112411e68e418e98a960ba7f8abe 6acf984ee06ce
7429112411e68e418e98a960ba7f8abe 6acf984ee06ce

বাগেরহাটের মংলায় এক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে একই কাপড়ে তৈরি দুই প্যান্টের হাতুড়ি ও দুই প্যান্টের নকশার ভিত্তিতে। নিখোঁজের ৬ দিন পর খুলনার কাজীবাছা নদী থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রায় দুই মাস তদন্তের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত নারীর নাম আসমা বেগম (৩৯)। সে মোংলা উপজেলার মালগাজী এলাকার আব্দুল জাবেদ আলীর মেয়ে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব এলাকার মৃত নুরুল শেখের ছেলে ইকরামুল শেখ (৪০) ও ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দেলূটিয়া এলাকার মৃত মোজাফফর হাওলাদারের ছেলে। মীর আলী (৪৮)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে তাদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মংলা থানায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম জানান, আসমা গত ১৪ আগস্ট মংলা ফেরি বন্দর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ওই দিন ইকরামুল ও মীর আলী আসমাকে প্রলোভন দিয়ে খুলনার দাকোপ উপজেলার বাণীশান্তা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতিতে ইকরামুলের বাড়িতে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ জানায়, পরদিন সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার জেরে তাকে হত্যা করা হয়।

কিভাবে পরিচয়ের উৎস পাওয়া যায়

নিখোঁজের ৬ দিন পর খুলনার বটিয়াঘাটা থানার কাজীবাছা নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। পরে লাশের ছবি রেডিও বার্তায় প্রচার হলে আসমা বেগমের নিখোঁজ ঘটনার সঙ্গে এর সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করে মোংলা থানা পুলিশ।

তদন্তের একপর্যায়ে আসমার পরিবারের সদস্যদের লাশের প্যান্টের ছবি দেখানো হয়। তারা আসমার বাড়ির অন্য প্যান্টের সাথে প্যান্টের রঙ এবং প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন, প্যান্টটি একই কাপড়ে তৈরি।

এছাড়া লাশের নাকের ছিদ্র দেখে স্বজনরা আসমার পরিচয় নিশ্চিত করেন। এভাবে প্যান্ট ও নাকের আদলে দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব।

আইটি গ্রেফতারে সহায়তা করেছে

আসমার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে খুলনার দাকোপ থেকে ইকরামুল ও মংলা থেকে মীর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ইকরামুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আসমা মোংলার বেড়িবাঁধ এলাকায় চায়ের দোকান চালাতেন। ওই দোকানে নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে অভিযুক্ত দুইজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার একটি 17 বছরের ছেলে এবং 9 বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান, ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ হানিফ উপস্থিত ছিলেন।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Press Nation Bangladesh