নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত মসলা ও চা বিক্রি শুরু করবে টিসিবি

1793346661222684 1793346661222684
1793346661222684

ভোক্তাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আটা ও আরও কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির বিষয়েও কাজ চলছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার নিজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই বাণিজ্যিক পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পেয়েছি। আশা করছি, নভেম্বরেই এটি বাজারে আনতে পারব।’

নভেম্বরেই বাজারে আসছে হলুদ, মরিচের গুঁড়া ও চা

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পণ্য যুক্ত করার মাধ্যমে ভোক্তাদের এক জায়গা থেকে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ তৈরি করতে চায় সংস্থাটি। এ জন্য বাজারের চাহিদা যাচাই করে পর্যায়ক্রমে নতুন পণ্য যুক্ত করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে পণ্য সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করায় সংস্থাটি সামান্য মুনাফাও করতে পারছে।

এ ছাড়া আটা বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। বাজারে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, তা যাচাই করতে জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে নতুন পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হবে।

চার-পাঁচ বছরে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য

আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে চায় টিসিবি। একই সঙ্গে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি। নতুন পণ্যের সংখ্যা এবং গ্রাহক বাড়লে এ আয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে অতিরিক্ত আয় করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন দক্ষতার ওপর।

গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা

বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

ফয়সল আজাদ বলেন, মাত্র চার মাস আগে নতুন পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটামুটি ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে চায় টিসিবি।

তিনি জানান, নতুন পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয়। ভোক্তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পণ্য কিনতে পারবেন। পাশাপাশি নতুন পণ্য বিক্রির কারণে ভর্তুকির আওতায় থাকা পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, সরকার বর্তমানে যেসব পণ্য ভর্তুকির আওতায় বিক্রি করছে, সেগুলোর দাম আগের মতোই থাকবে। নতুন পণ্যগুলোর দামও প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম রাখা হবে।

ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিও বিক্রির উদ্যোগ

স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ আরও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগ খতিয়ে দেখছে টিসিবি।

এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চালানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।

টিসিবির পরিকল্পনা হলো, ধাপে ধাপে পণ্যের তালিকা বাড়িয়ে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোকে ভোক্তাদের নিয়মিত কেনাকাটার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা।

পরিচালন ব্যয় কমাতে নতুন উদ্যোগ

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়ন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া হচ্ছে। অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।

পরিবহন ও পণ্য ওঠানো-নামানোর খরচ কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থা চালু করেছে সংস্থাটি।

টিসিবি চেয়ারম্যানের মতে, শুধু পরিচালন ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক আয় বাড়ানো জরুরি। এ জন্য সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রেখে নতুন পণ্য বিক্রির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী পেঁয়াজ ও আলু কেনে টিসিবি

পণ্য সংগ্রহের বিষয়ে টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, চিনি ও অন্যান্য নিয়মিত পণ্য কেনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী টয়লেট সাবান ও কাপড় কাচার সাবান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে কেনে না টিসিবি। বাজার পরিস্থিতি ও সরকারের প্রয়োজন বিবেচনা করে এসব পণ্য সংগ্রহ করা হয়।

ফয়সল আজাদ বলেন, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টিসিবি পেঁয়াজ কিনেছিল। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। তাই এখনই নতুন করে পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নেই।

তিনি আরও জানান, বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার প্রয়োজন মনে করলে পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহ করা হবে।

ভোক্তাদের সাশ্রয় নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, নতুন পণ্য যুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য হলো ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা এবং সংস্থার নিজস্ব আয় বাড়ানো। নিয়মিত কেনাকাটার জন্য মানুষ যেন টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তার মতে, টিসিবি থেকে নিয়মিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারলে একটি পরিবারের বছরে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয় হতে পারে।

নভেম্বর থেকে মসলা ও চা বিক্রি শুরু হলে টিসিবির বাণিজ্যিক পণ্যের তালিকায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। পর্যায়ক্রমে আরও পণ্য যুক্ত করে গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জন করতে চায় সংস্থাটি।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com