বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
এদিকে, রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক হলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মূল রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করাসহ পাঁচ কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
দুপুর বেলা সোয়া ২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে বেলা ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাডভোকেট আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। দীপের পক্ষে মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে দ্বীপকে বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল পিবিআই। তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে শুক্রবার রাতে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করার পর দ্বীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘দ্বীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
দ্বীপ বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।
রাতেই মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যেই শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।
‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করে দ্বীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।