পাবনা সদরে এক মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে একাধিকবার ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ঘটনা গোপন রাখতে এবং শারীরিক প্রভাব ধামাচাপা দিতে ভিকটিমকে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেতে বাধ্য করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামানকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। শুক্রবার বিকেলে তাকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এক ভিডিও বার্তায় বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে তাকে অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ করে আসছিল। শুধু অনৈতিক কাজ নয়, পরে, শারীরিক প্রতিক্রিয়া রোধ করার জন্য তাকে জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ানো হয়েছিল।
শিক্ষার্থীর দাবি, ওই শিক্ষক মাদ্রাসার আরও বেশ কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গেও একই আচরণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভিকটিম বাড়ি থেকে বের হলে ওই শিক্ষক আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভিকটিম পালিয়ে যায় এবং বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানায়।
ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাতভর মাদ্রাসা ঘেরাও করে শিক্ষক আবু ইউসুফকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে। তবে এ ঘটনার জেরে শুক্রবার সকালে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দোষ স্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
