Homeজাতীয়কুমিল্লায় ছাত্রী তাজমিন...

কুমিল্লায় ছাত্রী তাজমিন খুন, কথিত প্রেমিক রাজু গ্রেফতার

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার ঘটনায় তার কথিত প্রেমিক রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমিন হত্যার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা ও তদন্তের সূত্র ধরে রাজুর সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে।

এর আগে তাজমিনের লাশ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

তাজমিন নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষাপটে অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে ঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় তাজমিন। সেখান থেকে রাজুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে রাজু তাকে বিকাশের মাধ্যমে কক্সবাজারে আসার জন্য ৫০০ টাকা পাঠায়। পরে তিনি কক্সবাজারে পৌঁছান।




কক্সবাজারের প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরের কাউন্টার প্রতিনিধি আবদুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরের দিনের ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’-এর টিকিট সংগ্রহ করেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে রাজুর সহকর্মীর ভাষ্যমতে, অটোরিকশায় কুমিল্লা ফেরার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজু ফোনে কথা বলছিল এবং চালকের কথাও বলেছে। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নেমে পড়েন তাজমিন। এরপর তিনি নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমন মিয়ার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন। পুলিশের তথ্যমতে, চালক সুমন তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরজগৎপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। ধর্ষণের পর তাজমিনকে গলায় তোয়ালে দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন (৮ অক্টোবর) সকালে সেখানকার একটি খামারের গলি থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পরে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেখানো জায়গা থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।




লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, চালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন কল লগ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণের আরও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।