মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থেকে নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রীকে কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। উদ্ধারের পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট থেকে তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া তিন মেয়েরই বয়স ১৪ বছর। তাদের মধ্যে দুজন ভাগ্যকুল হরেন্দ্রনাথ স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং অন্যজন বালাসুর দারুল উলূম মহিলা মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই তিন শিক্ষার্থী যথারীতি স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পায়নি। পরে ১৫ অক্টোবর নিখোঁজ ছাত্রের মা শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর শ্রীনগর পুলিশ মেয়েদের উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানতে পারেন, রাঙামাটির কোতয়ালী এলাকার ১৬ বছরের এক ছেলে নিখোঁজ এক তরুণীর সঙ্গে টিক টক ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলে পরিচয় হয়। ওই কিশোরের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পরে পুলিশের একটি দল রাঙামাটির কোতোয়ালি এলাকায় গিয়ে ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে তিন ছাত্রী চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এরপর কলাতলী এলাকার একটি হোটেল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নবম শ্রেণির ছাত্রের পরিচয় দিয়ে মিরপুরে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে তিন দিনের জন্য হোটেলের তিন শিক্ষার্থী ২০ হাজার টাকায় একটি রুম ভাড়া নেয়। কক্সবাজারের স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক তাদের হোটেল ভাড়া দিতে সহযোগিতা করেন।
পুলিশ বলেছে যে উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদে, মেয়েরা পারিবারিক অশান্তি, পিতামাতার মধ্যে বিরোধ, কঠোর শাসন এবং নিয়মিত অপমান ও অবজ্ঞার কারণে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের প্রতি আসক্তি ও কল্পনাশক্তির প্রভাবও তাদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে পুলিশ মনে করে।
পুলিশ আরও জানায়, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ জানায়, দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিন ছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।