হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পায়ুপথে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ কেজি ৬৬২ গ্রাম ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টসহ আটক মোহাম্মাদ মিনহাজের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুল হাসিব আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর।
মামলার এজাহার ও রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মিনহাজের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান থানার নতুন হাট এলাকায়। তিনি ১ নভেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১২৭ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবি যাওয়ার জন্য টিকিট করেছিলেন। এ সময় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কাছে গোপন তথ্য আসে, মিনহাজের পায়ুপথে স্বর্ণ লুকানো রয়েছে।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের ডিপারচার বোর্ডিং ব্রিজ-সি-৪ সংলগ্ন হোল্ডিং লাউঞ্জ থেকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। পরে অধিকতর পরীক্ষার জন্য তাকে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় তার পায়ুপথে স্বর্ণপেস্টের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়।
পরে তার পরিহিত অন্তর্বাসের ভেতর থেকে তিনটি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্ট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটির ওজন ৪৫৪ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণপেস্টের ওজন ১ হাজার ৬৬২ গ্রাম। জুয়েলারি ব্যবসায়ীর পরীক্ষায় এগুলো ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণপেস্ট বলে প্রত্যয়ন করা হয়। পরিশোধনের পর এসব স্বর্ণপেস্ট থেকে আনুমানিক ১ হাজার ২৬০ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। উদ্ধার করা স্বর্ণপেস্টের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনহাজ স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য গোপন করেছেন এবং অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি একটি আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়, চক্রের মূল হোতা এবং চোরাচালানের অর্থের উৎস ও লেনদেনের তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাফায়েত উল্লাহ ভূঁইয়া।