ইবতেদায়ি শিক্ষক যাচাই, বেতন স্থগিত ৩২১ মাদ্রাসার

87ce65070a9c9d79e8d28d4eb6e4790d 6a8c481e1d438 87ce65070a9c9d79e8d28d4eb6e4790d 6a8c481e1d438
87ce65070a9c9d79e8d28d4eb6e4790d 6a8c481e1d438

অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষকের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই ও শুনানি এখনও শেষ হয়নি। এ কারণে তালিকাটি চূড়ান্ত নয়; যাচাই শেষে এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।

যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হওয়া ৩১০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি জনবল কাঠামোর বাইরে থাকা অতিরিক্ত শিক্ষককে অনুদান দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ায় আরও ১১টি প্রতিষ্ঠানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। মোট ৩২১টি মাদ্রাসার বেতন স্থগিত রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের বেতন স্থগিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

৪ হাজার ৩৪০ শিক্ষকের খসড়া তালিকা

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষকের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের আপত্তি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে এই ৪ হাজার ৩৪০ জনের তালিকাকে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে দেখছে না অধিদফতর। যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষ হওয়ার পর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। যাচাইয়ের সময় কোনও শিক্ষক বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন কি না, প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর আছে কি না এবং শিক্ষকের নাম ও অন্যান্য তথ্য সঠিক কি না; এসব বিষয় দেখা হচ্ছে।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, ‘৪ হাজার ৩৪০ জনের তালিকাটি খসড়া। যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। যাচাইয়ের একটি উদ্দেশ্য হলো, যেসব শিক্ষক মারা গেছেন, চাকরি ছেড়েছেন, অন্য কোথাও চাকরি নিয়েছেন বা অবসরে গেছেন, তাদের নামে এখনও বিল দেওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখা। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে চালু আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। অধিদফতরের এই উদ্যোগটি যথাযথ।’

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাইয়ের সময়সীমা ছিল। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর তারা মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন পরীক্ষা নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজ চলমান থাকায় শিক্ষকদের জন্য আরও সময় চাওয়া হয়েছে। পরে যারা উপস্থিত হয়ে তথ্য দিতে পারবেন, তাদের শুনানি নেওয়া হবে এবং অনুপস্থিতদের পরবর্তী সময়ে বিবেচনা করার কথা জানানো হয়।

৩১০ মাদ্রাসার বেতন কেন স্থগিত

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার মধ্যে ৩১০টি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেতন যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা হিসেবে অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে। কোনও প্রতিষ্ঠান দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়ে থাকলে সেটি এখনও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা হিসেবে অনুদান পাওয়ার উপযুক্ত কি না, যাচাইয়ের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে।

চারজনের কাঠামোয় ৫ শিক্ষক

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের ১১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় জনবল কাঠামোর বাইরে থাকা শিক্ষককে অনুদান দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর বেশিও থাকতে পারে। জনবল কাঠামো অনুযায়ী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় চারজন শিক্ষক অনুদান পাওয়ার কথা। কিন্তু ১১টি প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিক্ষককে অনুদান দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত একজন শিক্ষক জনবল কাঠামোর বাইরে ছিলেন।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই ১১টি প্রতিষ্ঠানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এ ধরনের আরও কোনও অসংগতি পাওয়া যায় কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম ফারাজী।

১৫১৯ প্রতিষ্ঠানের তালিকা, মাঠপর্যায়ে ১২৫৮

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রকৃত সংখ্যার বিষয়টিও যাচাইয়ের আওতায় এসেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ধরে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা ১ হাজার ৫১৯টি দেখানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের তথ্যে ১ হাজার ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। দুই হিসাবের মধ্যে ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান পরবর্তী সময়ে দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালু না রাখায় তালিকায় থাকলেও বাস্তবে সক্রিয় নেই। ফলে অনুদান পাওয়া প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা এবং শিক্ষকসংখ্যা যাচাই করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষকদের খসড়া তালিকা তৈরির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে। এতে কোন প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষক কর্মরত, কারা অনুদান পাওয়ার যোগ্য এবং কোন প্রতিষ্ঠানের নামে এখনও অনুদান বা বেতনের বিল দেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয় স্পষ্ট হবে।

তাজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে যেসব শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান অনুদান পাওয়ার শর্ত পূরণ করছে না, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা যোগ্য, তাদের তথ্য চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর বলছে, যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষ হওয়ার পর শিক্ষকদের চূড়ান্ত তালিকা এবং অনুদানভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত অবস্থার বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান (যুগ্মসচিব) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যে খসড়া তালিকা করা হয়েছে, সেটি এখনও চূড়ান্ত নয়। ইতোমধ্যে তালিকায় থাকা অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অধিদফতরে আসছেন। যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করে তালিকাটি চূড়ান্ত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ফাইনাল করার আগে সবাইকে বলছি, আপনারা আসেন। দেখে যদি কারও এমন কোনো তথ্য থাকে, যা আমাদের কাছে নেই বা আপডেট নেই, তাহলে সেটা জানাবেন। যারা তালিকায় রয়েছেন, তাদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেগুলো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হওয়ার পরও কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা হিসেবে আলাদাভাবে অস্তিত্বশীল থাকার দাবি করছে; এমন তথ্যও যাচাইয়ে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাগজপত্র দিতে বলা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয়ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা আবার যাচাই করা হবে।

মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান বলেন, ‘আমরা চাই, প্রকৃত প্রতিষ্ঠান এবং প্রকৃত শিক্ষকরা যেন অনুদান পান। যারা যোগ্য, তারা যাচাই-বাছাই করেই যেন পায়; এটাই আসল কথা। সময় একটু বেশি লাগলেও প্রকৃত চিত্রটা পাওয়া আমাদের মূল কাজ।’

অধিদফতরের এই কর্মকর্তা জানান, ‘কিছু শিক্ষক মারা গেছেন এবং তাদের তথ্যও হালনাগাদ করা হচ্ছে। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় কোনও শিক্ষক মারা যাওয়ার তথ্য অধিদফতরে পৌঁছাতে সময় লাগে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবে টাকা গেলেও মৃত ব্যক্তি তা উত্তোলন করতে না পারায় অর্থ ব্যাংকেই থেকে যায় এবং পরবর্তী সময়ে তা ফেরতও আসে। এসব তথ্যও যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অনুদানভুক্তির জন্য আগে পাঠানো তালিকা প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তালিকাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে ওই তালিকা নিয়ে কিছু অভিযোগ আসায় অধিদফতর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আবার যাচাই-বাছাই করছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যাদের অনুদান দিতে চায়, তারা যেন প্রকৃতভাবে অনুদান পান, এটাই আমরা চাই। যাচাই-বাছাই করে যারা পাওয়ার যোগ্য, তারা পাবেন। সময় নিয়ে হলেও আমরা প্রকৃত চিত্রটা বের করতে চাই।’

যাচাই-বাছাইয়ের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নিয়মিতভাবে লোকজন আসছেন, তাদের বক্তব্য শোনা হচ্ছে এবং শুনানি নেওয়া হচ্ছে। আরও কিছু সময় দিলে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, যাদের কোনও তথ্য দেওয়ার আছে, তারা দ্রুত আসুন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হোন। আমরা তাদের বক্তব্য শুনছি এবং তথ্যগুলো যাচাই করছি। শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাইয়ের কাজ ধাপে ধাপে আরও করা হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা, শিক্ষকসংখ্যা ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh