শেখ হাসিনা-রেহানাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৩১ জানুয়ারি

1793273562222607 1793273562222607
1793273562222607

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহের অভিযোগে করা দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।

মামলার অপর আসামি হলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।

২৭৬ কোটি টাকা সংগ্রহের অভিযোগ

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে দেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এ অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।

দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও এসব ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিএসআর তহবিল সাধারণত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। দুদকের দাবি, এই তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় নিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

যেভাবে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করা হয়। ট্রাস্টের দলিলে শেখ হাসিনাকে আজীবন সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলেও দলিলে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরে বিষয়টি ‘বিবিধ’ আলোচনায় উত্থাপন করেন। পরে বিভিন্ন নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের নামে অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের অভিযোগ

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার তিন আসামি পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

কবে দায়ের হয় মামলা

গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কে অপরাধ সংঘটনের সময়কাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ওই দিন দুদক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারে কি না, তার ওপর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করবে।

তবে মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে সিদ্ধান্ত আসবে।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com