রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে সংরক্ষিত মৃত নারীদের ধর্ষণ ও বিকৃত করার নৃশংস ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করায় প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন ‘আলাপ’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদক দীপু সিকদার। হুমকির পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ওই সাংবাদিক।
জিডিতে সাংবাদিক দীপু শিকদার উল্লেখ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে মর্গের অভ্যন্তরে চলমান নারকীয় কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযুক্তদের জবানবন্দি নেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও হুমকির শিকার হন। এই জঘন্য কাজের পিছনে কোন বিচ্ছিন্ন লোক নেই। বরং মর্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
দীপু সিকদার হুমকির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মর্গের সাবেক সহকারী নূরে আলম শান্তর নাম উল্লেখ করেন। জিডির বিবরণ অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই সাবেক মর্গ সহকারী শান্তকে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে শান্তও দিপুরের ফোনে ‘আদালতে দেখার’ হুমকি দিয়ে মেসেজ পাঠায়।
এর আগে 18 অক্টোবর অনলাইন মিডিয়ার প্রধান ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘আলাপ’ বলেছিল, ‘মৃত নারীরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। নিরাপত্তা কোথায়?শিরোনামে প্রকাশিত হয় ডিজিটাল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের ওপর চরম বিকৃত যৌনকর্মের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে এ ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্ত দুজনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। আসামিদের একজন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গের সাবেক ইনচার্জ জতন লাল এবং অন্যজন বরখাস্ত মর্গের সহকারী নূরে আলম শান্ত। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিককে টার্গেট করে ভীতি প্রদর্শন শুরু হয়।
এদিকে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক দীপু সিকদারকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষা করে, লুকানো অনিয়ম উন্মোচন এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি অনন্য হাতিয়ার। পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে হুমকি বা হয়রানি মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
সংগঠনের সদস্য দীপু সিকদারের উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ক্র্যাব। বিবৃতিতে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে অভিযোগকারী সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।