তেনরাগিরি ইকোপার্কে 11টি হরিণ নিখোঁজ, বনবিভাগের খবর নেই

Fab620007c9cdb8da12c714dfda65427 6ae39f92c89c7 Fab620007c9cdb8da12c714dfda65427 6ae39f92c89c7
Fab620007c9cdb8da12c714dfda65427 6ae39f92c89c7

বরগুনার তালতলীর টেংরাগিরি ইকোপার্কে ১৪টির মধ্যে ১১টি হরিণ নিখোঁজ হয়েছে। এখন আছে মাত্র তিনজন। একের পর এক হরিণ কোথায় গেল, কীভাবে হারিয়ে গেল, তার কোনো জবাব নেই বন দফতরের কাছে। হরিণ রক্ষায় নির্মিত বেড়াও ভেঙে পড়েছে। বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, সংরক্ষণ বেকায়দায় পড়েছে। সব মিলিয়ে ‘দ্বিতীয় সুন্দরবন’ নামে পরিচিত এই পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা যায়, গত ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় টেংরাগিরি ইকোপার্ক। ‘এনহ্যান্সমেন্ট অফ ইকো-ট্যুরিজম অপারচুনিটিজ’ কর্মসূচির অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কে প্রাথমিকভাবে হরিণসহ ১৪ প্রজাতির বন্য প্রাণী রাখা হয়েছিল। হরিণের অবাধ বিচরণ ও বনের সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসতেন। এখন পাক সেই আকর্ষণ হারাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদ্য সংকট, বন বিভাগের তদারকি না থাকা এবং চোরা শিকারিদের তৎপরতা রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় হরিণের সংখ্যা কমেছে। তবে ১১টি হরিণের কী হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি বন বিভাগ। হরিণ মারা গিয়েছিল, সরানো হয়েছিল বা অন্যথায় হারিয়ে গিয়েছিল। এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

পূজার সময় ঢাকা থেকে বেড়াতে আসেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা শাহরিয়ার কামাল। তিনি বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার এসে হরিণের অবাধ বিচরণ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। প্রায় সারাদিন সেই আকর্ষণে আসার পর একটা হরিণও দেখিনি। বেড়াও ভেঙে গেছে। বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্যের প্রতি এমন অবহেলা অগ্রহণযোগ্য। দায়িত্বরতদের অবহেলা, সঠিক খাবার না দেওয়া এবং সঠিকভাবে পাহারা দেওয়ার কারণে হরিণ অন্যত্র চলে যেতে পারে।’

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন, মিজানুর রহমান ও আক্কাস আলী বলেন, ‘একসময় এখানে পর্যটকরা হরিণ দেখতে আসতেন। এখন হরিণ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। পর্যটকদের আগমন আগের তুলনায় অনেক কম। বেড়াও ভাঙা দীর্ঘদিন ধরে। এভাবে চলতে থাকলে পর্যটকরা পার্ক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।’

এ ব্যাপারে তালতলী রেঞ্জের চখিনা বীট কর্মকর্তা রহিমুল ইসলাম জুমেল বলেন, বেড়া ধসের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত পার্কটি সংস্কার করে বন্য প্রাণী রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে পার্কে হরিণের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বন বিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com