সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এপ্রিলে জাতীয় সংসদে দুই লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কথা জানান। একই মাসে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পাটের ব্যাগ ও পোশাক বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এপ্রিলের শেষে জানান, জুলাই থেকে পাইলট কর্মসূচি শুরু হবে। জুনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও জুলাই-আগস্টে বিতরণ শুরুর কথা জানান।
তবে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও শিক্ষার্থীদের হাতে এসব সামগ্রী পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময়সূচি নিশ্চিত হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে সামগ্রী জমা হয়েছে এবং সেগুলো জেলা পর্যায়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে বিতরণ কতদূর এগিয়েছে, কতজন শিক্ষার্থী পেয়েছে এবং কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ২০ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত অধিদফতরে ২ লাখ ৫ হাজার সেট স্কুল ড্রেস, ৬৭ হাজার ৯০০ জোড়া জুতা ও ১ লাখ ১৫ হাজার ২১৬টি স্কুল ব্যাগ জমা ছিল। এসব সামগ্রী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোতে পাঠানোর জন্য বিভাগভিত্তিক সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়। তবে জেলা থেকে নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোতে সামগ্রী পৌঁছেছে কি না এবং কতজন শিক্ষার্থী তা পেয়েছে, সে বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
গত ৮ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কথা জানান। ২২ এপ্রিল সংসদে আবারও তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ২ লাখ শিশুর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণসহ নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
একই দিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পাটের ব্যাগ বিতরণ নিয়ে একটি সভা হয়। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, বস্ত্র ও পাট এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পরীক্ষামূলকভাবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। প্রথম মাসে ১ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে এসব সামগ্রী দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সেদিন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। সরকারের ঘোষণায় দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো, পাটশিল্পকে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
শিক্ষামন্ত্রীর সময়সীমা ছিল জুলাই
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার এক সপ্তাহ পর, ২৯ এপ্রিল সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের জানান, জুলাই থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণের পাইলট কর্মসূচি শুরু হবে।
সেদিন তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক সেট করে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ দেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কর্মসূচির দৃশ্যমান অগ্রগতি হওয়ার কথা।
এ সময় বেসরকারি খাতের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়। তৈরি পোশাকশিল্পের সংগঠনগুলো পোশাক সরবরাহে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সহায়তায় কর্মসূচির সামগ্রী সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়।
তবে কর্মসূচির পরিধি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ঘোষণায় কিছু পার্থক্য দেখা যায়। এপ্রিলে প্রতি উপজেলায় দুটি বিদ্যালয়ের কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে আট বিভাগের ২৫ উপজেলা ও থানার প্রায় ৩ হাজার ৫২২টি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাইলট কর্মসূচির তথ্য প্রকাশিত হয়।
জুনে আবারও নতুন সময়সীমা
গত ৪ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, আগস্টের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ড্রেস ও জুতা বিতরণ কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে চায় সরকার। রাজধানীতে ফুটওয়্যার খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রায় এক কোটি সাত লাখ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য ধাপে ধাপে পোশাক ও জুতা সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এর চার দিন পর, ৮ জুন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পাটের স্কুল ব্যাগ বিতরণের প্রস্তুতিমূলক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও বিস্তারিত সময়সূচি তুলে ধরেন। তিনি জানান, জুলাই-আগস্টে পাইলট কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথম ধাপে কমপক্ষে এক লাখ শিক্ষার্থীকে সামগ্রী দেওয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মিলিয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে ইউনিফর্ম, ব্যাগ, জুতা ও মোজা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ৫ লাখ পাটের স্কুল ব্যাগ সরবরাহে সহযোগিতা করবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী বছর আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অর্থাৎ, এপ্রিলে জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হলেও জুনে প্রতিমন্ত্রী জুলাই-অক্টোবরের মধ্যে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর কাছে সামগ্রী পৌঁছানোর সময়সীমা জানান। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে বিতরণের বাস্তব অগ্রগতি ও শিক্ষার্থীদের কাছে সামগ্রী পৌঁছানোর হিসাব সামনে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
অধিদফতরে সামগ্রী, বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত ২০ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ২ লাখ ৫ হাজার সেট স্কুল ড্রেস, ৬৭ হাজার ৯০০ জোড়া জুতা এবং ১ লাখ ১৫ হাজার ২১৬টি স্কুল ব্যাগ অধিদফতরে সংরক্ষিত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে অধিদফতর থেকে সামগ্রী সংগ্রহ করতে বলা হয়। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর, রাজশাহী ও রংপুরের জন্য ২২ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রাম ও সিলেটের জন্য ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর এবং খুলনা ও বরিশালের জন্য ২৭ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর সময় নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশনা অনুযায়ী সামগ্রীগুলো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।
জেলা পর্যায়ে সামগ্রী পাঠানোর পর নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোতে সেগুলো পৌঁছানোর প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কতটি বিদ্যালয়ে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে, কতজন শিক্ষার্থী পেয়েছে এবং কোন কোন এলাকায় বিতরণ বাকি; এসব তথ্য প্রকাশ না হলে কর্মসূচির বাস্তব অগ্রগতি বোঝা কঠিন।
অনুদানে আসছে পোশাক, জুতা ও ব্যাগ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করা হচ্ছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় প্রায় ১ লাখ পাটের ব্যাগ দিয়েছে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ থেকে ২ লাখের বেশি জামা এসেছে। এ ছাড়া বাটা, বসুন্ধরা গ্রুপ, এপেক্স, জাম্প কেডস ও আরএফএল থেকে প্রায় ৬৫ হাজার জোড়া জুতা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে অনুদানের মাধ্যমে সামগ্রী সংগ্রহ, সেগুলোর মান ও মাপ যাচাই, জেলা পর্যায়ে পাঠানো এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিটি ধাপেই সমন্বয় প্রয়োজন। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সামগ্রীর মজুতের পরিমাণে পার্থক্য থাকায় হালনাগাদ ও সমন্বিত হিসাবও জরুরি।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় পিইডিপি-৫
বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রস্তাবিত প্রকল্পের তালিকায় পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) আওতায় স্কুল ইউনিফর্ম, ব্যাগ, জুতা ও মোজা দেওয়ার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রস্তাবিত পিইডিপি-৫-এর মেয়াদ জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় উল্লেখ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এই ব্যয় পুরো কর্মসূচির জন্য; শুধু স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণের জন্য নয়।
প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। মেসেজ পাঠিয়েও তার কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।
এর আগে গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করি। কবে থেকে শিক্ষার্থীদের জামা-জুতা-ব্যাগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে, সে ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকি মাত্র।’
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য
সরকারি ঘোষণায় জুলাই থেকে কর্মসূচি শুরুর কথা বলা হয়েছিল। পরে আগস্টের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর কাছে সামগ্রী পৌঁছানোর সময়সীমা জানানো হয়। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এসে মূল প্রশ্ন—কতজন শিক্ষার্থী বাস্তবে এসব সামগ্রী পেয়েছে, কতজন অপেক্ষায় আছে এবং বাকি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে আর কত সময় লাগবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. লাল হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্কুল-সংক্রান্ত বিষয় থাকলেও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভাগ রয়েছে। একেক ভাগে একেক ধরনের সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি আমি পরিষ্কারভাবে জানি না। আপনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি সরাসরি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’
অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মনোয়ারা ইশরাত বলেন, ‘আমরা প্রথমে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আওতায় স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দিতে চেয়েছিলাম। এ জন্য ১৮০ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর (এইচপিএম) সময় পাওয়া যায়নি। এখন আমরা সিএসআরের আওতায় যেসব সামগ্রী পাওয়ার কথা, সেগুলো পেয়েছি। তবে উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সময় পাচ্ছি না। আশা করছি, আগামী মাসের শেষের দিকে স্কুল ড্রেস বিতরণের তারিখ পাওয়া যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল ড্রেসের সঙ্গে জুতাও দেওয়া হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আর পাটের ব্যাগ বিতরণের সময় পরে জানানো হবে। মন্ত্রণালয় (বস্ত্র ও পাট) থেকে সময় জানানো হলে সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
পরে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন, বাজেট ও অডিট) শাহানা সারমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার জানা মতে, এই মাসেও (অক্টোবর) স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামী নভেম্বর মাসে হয়তো প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে শুনেছি। তবে জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম আরও পরে হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘পাটের ব্যাগ আমরা দিচ্ছি না। এটি দিচ্ছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। তাদের একটি সময়সূচি রয়েছে, কবে তারা দিতে পারবে। ৫ লাখ পাটের ব্যাগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে আমার জানা মতে, তারা এখনও পুরোটা দিতে পারেনি। জুতার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।’