মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আট মাসের অচলাবস্থার অবসান এবং স্থবির যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। এ অবস্থায় দুই দেশের মধ্যস্থতার উদ্যোগে ইতিবাচক অগ্রগতির আভাস দিয়েছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। ইসলামাবাদ এ বিষয়ে ‘সতর্ক আশাবাদ’ প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী রয়টার্সকে বলেছেন যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখাচ্ছে। সম্প্রতি, পাকিস্তানের একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের তেহরান সফরের পর, দেশটির সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির এই কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। চলতি মাসে তিনি দুইবার ইরান সফর করেন। সর্বশেষ সফরে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান তার সঙ্গে ছিলেন।
তার সফর ঘিরে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তিনটি দেশের যে কোনো একটিতে হামলা অন্য দুটি দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে এই চুক্তির পরিধি বাড়ানো যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইরান এতে যোগ দিতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এ বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি। তবে তিনি বলেন, যৌথ প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্য রয়েছে এমন দেশগুলোকে স্বাগত জানানোর সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তিন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরকে শান্তি আলোচনার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সমঝোতার পথে বাধা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের মতে, কিছু প্রভাবশালী মহল ও স্বার্থান্বেষী মহল গোপনে শান্তি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের তেহরানে সফর এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: আল-জাজিরা