শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এই আন্দোলনকে সফল করতে জাতীয় ইউনিয়ন, ক্রাফট ফেডারেশন ও সেক্টরের কর্মকর্তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আল ফালাহ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন ওয়ার্কশপ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় পর্যায়ে নেতৃস্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বাংলাদেশ শ্রম কল্যাণ ফেডারেশন 23 মে, 1968 সালে ইসলামী আদর্শে অনুপ্রাণিত পাকিস্তানের তৎকালীন শ্রম আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাদের মধ্যে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়া এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য দাবি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, কলকারখানা, কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শোষণ-বঞ্চনা দূরীকরণ এবং জীবনমান উন্নয়নে ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের তাদের দাবি আদায়ে আইনি ও নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে কাজ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবের চেয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর উচিত শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
ফেডারেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অধীনে এক হাজারের বেশি ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও আদর্শিক বিকাশও সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।
শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকদের মধ্য থেকেই শ্রম খাতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। তাদের প্রকৃত সমস্যা এবং কাজের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে হবে। নেতাদের ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জন করতে হবে, নিয়োগকর্তাদের সাথে আলোচনা করতে হবে এবং শ্রমিকদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিক নেতাদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। সেই সঙ্গে ইসলামী আদর্শ, নৈতিকতা, উত্তম চরিত্র, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক ও সততার চর্চা বাড়াতে হবে। এসব গুণের সমন্বয় ঘটিয়ে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।
শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে অতীতের ত্যাগ ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমজীবী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ লস্করের সঞ্চালনায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। আত্মসমর্পণ