মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনা ইরানের, গোয়েন্দা মেমোতে সতর্কবার্তা

1792867308222136 1792867308222136
1792867308222136

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন কূটনীতিক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা স্মারকে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিতে থাকা দূতাবাসগুলোর কর্মীদের সতর্ক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের হাতে আসা ২৩ অক্টোবরের একটি মেমোতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো ওই স্মারকে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

দূতাবাসের কর্মী কমানোর পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগ

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে গোয়েন্দা তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে কর্মীসংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) জে ক্লেটন ওই মেমোতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সতর্ক করে বলেন, মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়ে দূতাবাসের কর্মীদের দ্রুত অবহিত করা প্রয়োজন।

এক পৃষ্ঠার ওই স্মারকটি প্রকাশ্যে ব্যবহারের উপযোগী বা আনক্লাসিফায়েড পর্যায়ে রাখা হয়েছে। তবে এতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের নির্দিষ্ট কোনো দেশ কিংবা হামলার পরিকল্পনার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তার মাত্রা কমিয়ে আনারও প্রস্তাব দিয়েছেন ক্লেটন। এর ফলে ঝুঁকিতে থাকা কূটনীতিক ও অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য আরও ব্যাপকভাবে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন কর্মী কমানোর নির্দেশ

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং জেদ্দা ও দাহরানের কনস্যুলেট থেকে পরিবারের সদস্য ও কর্মীদের একটি বড় অংশকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক্সিওস জানিয়েছে, শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, কাতার ও জর্ডানের মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও কর্মী কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, হুতিদের হামলার আশঙ্কা এবং ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথিত সন্ত্রাসী পরিকল্পনার হুমকি বিবেচনায় নিয়ে কূটনৈতিক উপস্থিতি কমিয়ে শুধু জরুরি কর্মীদের রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বাইরেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে হামলার পরিধি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

ইরানকে নতুন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন। একই সঙ্গে তেহরানকে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আরেকটি সীমিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে। অন্যদিকে ইরান চুক্তিতে রাজি হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইরান যদি বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আলোচনায় বসে কার্যকর সমাধানের পথে এগোতে পারে। তবে ইরান সে পথে এগোবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্য এবং নতুন গোয়েন্দা সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গোয়েন্দা স্মারকে সম্ভাব্য হামলার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা, লক্ষ্যবস্তু কিংবা সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে হুমকির প্রকৃত মাত্রা ও সম্ভাব্য হামলার পরিধি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে দূতাবাসগুলোতে কর্মী কমানো এবং জরুরি কর্মীদের রেখে অন্যদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতিটিকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh