নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলে দুই মুখোশধারী আসামি সুজন পাল (৩৫) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর মাইলোরা এলাকার রামকৃষ্ণ মন্দিরের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আহত সুজন পাল খালিয়াজুরী উপজেলার মেহেন্দিপুর গ্রামের জিতেন্দ্র পালের ছেলে। সে মোহনগঞ্জে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করে এবং পরিবার নিয়ে স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় থাকে।
সুজনের স্ত্রী টুম্পা পাল জানান, সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর মোটরসাইকেলে দুই মুখোশধারী ব্যক্তি সুজনের কাছে এক বিদেশীর বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। এক পর্যায়ে তাদের একজন পিস্তল বের করলে সুজন পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তারা তাকে পেছন থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে সুজন ময়লা রামকৃষ্ণ মন্দিরের ১০০ মিটার আগে পুকুরে হাত-মুখ ধুতে যায়। পরে পুকুরঘাট থেকে পাকা সড়কে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে দুই মুখোশধারী দুবাই প্রবাসী পলাশ সাহার বাড়ির অবস্থান জানতে চান। তাদের একজন অস্ত্র বের করলে সুজন পালানোর চেষ্টা করে। এরপর তাকে পেছন থেকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে দেওথান কালীমন্দিরের দিকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা সুজনকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলক থিথি জানান, সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে সুজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তার অবস্থা বিবেচনা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ানুল হাসান জানান, গুলিতে একজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বারহাট্টা সার্কেল ইনচার্জ ও থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অপরাধ স্থল পর্যবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে সুজনকে কেন গুলি করা হয়েছে এবং হামলাকারী কারা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে।এর তিনদিন পর জেলায় আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।