দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে ৩৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ

28918d534cb8108626cc80c8c34f6e60 6a3147875fbd7 28918d534cb8108626cc80c8c34f6e60 6a3147875fbd7
28918d534cb8108626cc80c8c34f6e60 6a3147875fbd7

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলাটিতে ৩৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষীরা জবানবন্দি দেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে জেরা করা সম্ভব হয়নি। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

দুদকের পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সাক্ষ্য দেওয়া ১২ জন হলেন—কমিউনিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এফএভিপি মোহাম্মদ শাহরিয়ার চৌধুরী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান, প্রাইম ব্যাংকের এসইভিপি ও হেড অব আইসিসিডি মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, এনআরবি ব্যাংকের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগের এসএডিপি উদয় সংকর চাকী, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফয়সাল ভূঞা পিয়াস, দুর্নীতি দমন কমিশনের অফিস সহায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল কবির, গণপূর্ত ই/এম বিভাগের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল আলম, একই বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাজেদুল ইসলাম, গণপূর্ত ই/এম উপবিভাগের উপপ্রকৌশলী নাহিদ হাসান লিজন, ঢাকা বোর্ড ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান তুষার এবং এসপিবিএনের ডিআইজি ডা. শোয়েব রিয়াজ আলম।

এর আগে, গত ৮ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন একই আদালত। পরে ৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করেন হাফিজুল ইসলাম।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় অভিযোগপত্রে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বেনজীর আহমেদের বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা পাওয়া গেছে। ব্যয় বাদে তার নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেন বেনজীর আহমেদ।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com