ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লাল-সবুজের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে; ফলে ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
হারারেতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদ আগুনে বোলিং করে স্বাগতিক শিবিরে আঘাত হানে। ডানহাতি পেসার মাত্র 24 রানে স্বাগতিকদের টপ অর্ডার থেকে 3 উইকেট তুলে নেন, ব্রায়ান বেনেট, বেন কুরান এবং অভিষেককারী তাফাদজওয়া সিগাকে ফিরিয়ে দেন।
দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন এবং ব্রেন্ডন টেলর সেই উদ্বোধনী বিপর্যয় সামাল দেন। দুজনেই অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাল্টা জবাব দিয়ে তাদের ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূরণ করেন। সেঞ্চুরির পথে থাকা টেলরকে (৮১) বোল্ড করে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন অলরাউন্ডার সাইফ হাসান। তিনি জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে তার পরের ওভারে শূন্য রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।
এরপর ৯৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আরভিনকে জেলে পাঠান পেসার শরিফুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা এবং নিউম্যান নিয়ামহুরির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত 50 ওভারে 8 উইকেটে 271 রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৩টি এবং শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান ২টি করে উইকেট নেন।
২৭২ রানের টার্গেটে ওপেনিং জুটিতে ভালো শুরু করেন তানজিদ হাসান তামিম। শুরু থেকেই চড়াই-উতরাই খেলতে থাকেন। তবে, দলের সংগ্রহের গতি সত্ত্বেও, দল প্রথম আঘাত পায় যখন সৌম্য সরকার 9 রানে মুজরাবানির বলে স্লিপে ক্যাচ দেন। ফিফটির দ্বারপ্রান্তে থাকা তানজিদ তামিম ৩৮ বলে ৪৬ রানের মার্কি ইনিংস নিয়ে বিদায় নিলে প্রতিরোধ ভেঙে দেন।
৬৬ রানে তানজিদ আউট হওয়ার পর শুরু হয় ব্যাটিং ধস। মিডল অর্ডারে নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফ হাসান সাজঘরে ফিরে যান উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই। ব্যাটারদের মিছিলে দ্রুতই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত রিশাদ হোসেনের ৩৩ বলে ২৩ রান এবং তাসকিন আহমেদের অপরাজিত ১৬ রান ঘাটতি কমাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত 172 রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ব্র্যাড ইভান্স, যিনি একা হাতে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। এছাড়া সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ২টি করে উইকেট নিয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।