ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নকে বিভক্ত করার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে পারস্পরিক মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণার ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত গালুয়া বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ফলে উভয় পক্ষের ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁটালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের একটি ডিও (ডেমি অফিসিয়াল) চিঠিতে রাজাপুর পৌরসভা ও গালুয়া ইউনিয়নকে দুইটি ইউনিয়নে বিভক্ত করার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ইউনিয়নের অখণ্ডতা রক্ষায় শুক্রবার বিকেল ৪টায় গালুয়া বাজারে মানববন্ধনের ঘোষণা দেয় একটি পক্ষ। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ইউনিয়ন বিভক্তির উদ্যোগ বাতিল, প্রশাসনিক সেবার মানোন্নয়ন, প্রয়োজনে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং গালুয়াকে মডেল ইউনিয়ন করা।
অপরদিকে বৃহত্তর পুটিয়াখালীর ৭ নম্বর ইউনিয়নকে বৃহত্তর পুটিয়াখালী ঘোষণার দাবিতে একই দিন বিকাল ৩টায় গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
১৪৪ ধারার বিষয়টি না জেনেই কিছু লোক অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করে। পরে নিষেধাজ্ঞার খবর পেয়ে ফিরে যায়। ফলে কোনো পক্ষই মানববন্ধন করতে পারেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আরা মৌরী স্বাক্ষরিত আদেশে সমাবেশের উদ্দেশ্যে গালুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রবেশ, মাইক্রোফোন বা লাউডস্পিকার ব্যবহার এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একসঙ্গে চলাফেরা, সমাবেশ, মিছিল ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ ফিরোজ কামাল জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শামীম রেজা সজিব জানান, গালুয়া ইউনিয়নকে দুইটি ইউনিয়নে বিভক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে উভয় পক্ষ একই স্থানে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে। মানববন্ধনে প্রশাসনের কোনো বাধা নেই। তবে একই স্থানে দুই পক্ষ কর্মসূচি দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে।
