পোশাকশ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলাজুড়ে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। এ সময় তাঁরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও বাসযাত্রীরা।
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবস্থান
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।
এ সময় আবুল কালাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে পরাজিত শক্তি ও গুপ্তচক্র নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। তবে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তারা প্রকৃত শ্রমিক নয়।
শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে কেউ যাতে কারখানা, যানবাহন কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি রাখছেন বলে জানান স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলাজুড়ে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজিবির পাশাপাশি এসআরবি, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও বিভিন্ন সড়কে অবস্থান করছেন।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।