বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে আবারও বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে মিরপুরের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী ব্যক্তিরা।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সড়কে শ্রমিকরা
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই অসন্তোষ বিরাজ করছে। এসব দাবি নিয়ে শ্রমিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন। পরে তারা সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় নিজেদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ ও দাবির বিস্তারিত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ কর্মক্ষেত্রে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ
শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কয়েকটি সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে।
বিশেষ করে সকালবেলায় কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি তৈরি হয়। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। কেউ কেউ বিকল্প পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ ছাড়া গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। পরিস্থিতির কারণে মিরপুরের আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিক চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
এদিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্দোলন কতক্ষণ চলবে, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে শিল্প উৎপাদন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে। তাই শ্রমিকদের দাবি এবং চলমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।