সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তোতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সারোয়ার হোসেন আকন্দ (৫১) থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
সরোয়ার হোসেন আকন্দ সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম তোতা রায়গঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সোনাখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগে বলা হয়, ইউপি সদস্য সারোয়ার হোসেন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণ করেন। প্রকল্পের বিল থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তোতা। ঘটনার দিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তোতা চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে ইউপি সদস্যকে গালিগালাজ করতে থাকে। এতে তাকে অস্বীকার করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অবিলম্বে নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে ইউপি সদস্যকে ঘুষি ও মারধর শুরু করেন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ইউপি সদস্যকে রক্ষা করা গেলেও তোতাপাখির আঘাতে তাকে পরিষদ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সারোয়ার হোসেন আকন্দ জানান, নিজের টাকা খরচ করে প্রকল্পের কাজ শেষ করে বিএনপি নেতাকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তিনি বিল পাচ্ছেন না। পরিষদের সচিব চেক প্রস্তুত করেছেন, কিন্তু তিনি তাকে বলেছেন, আমি ৫০ হাজার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত চেকটি আমাকে না দিতে।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিরাজুল ইসলাম তোতা। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি সদস্যের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা সমাধানের দায়িত্ব স্থানীয় বিএনপি নেতারা নিয়েছেন। বিষয়টি মিমাংসা হয়ে যাবে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জানান, তার সামনেই এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
রায়গঞ্জ থানার ওসি আহসানুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল খালেক পাটোয়ারী জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।