চট্টগ্রামের রাউজানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে এক নারী যাত্রীর ব্যাগ বন্দুকের মুখে চুরির অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই ব্যাগে জমি রেজিস্ট্রির জন্য নেওয়া ২৫ লাখ টাকা ছিল।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের মঙ্গলখালী এলাকায় রমজান আলী চৌধুরী হাট ও গাছী মোহাম্মদ জামার সংযোগ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ছিনতাইয়ের শিকার শামসুন নাহার (৫০)। তিনি পূর্ব গুজরা উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাজী মুহাম্মদ আফজালের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামসুন নাহার অটোরিকশাযোগে রাউজান সদরের সাব রেজিস্ট্রার অফিসে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরও দুই আত্মীয়। পথে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা ছয়জন তাদের অটোরিকশা থামায়। তাদের দুজনের হাতেই ছিল পিস্তল। মহিলার দিকে পিস্তল দেখিয়ে বললেন, ‘ব্যাগটা দাও, আমি তোমাকে গুলি করব।’ এরপর তারা ওই নারীর ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, রিজার্ভে ভাড়া করা অটোরিকশা থামিয়ে তিন যুবক অস্ত্রের মুখে এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে তারা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
শামসুন নাহার জানান, বন্দুকধারীরা তার অটোরিকশা আটকে ২৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ওই টাকা নিয়ে তিনি উপজেলা রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় তিনি রাউজান থানায় মামলা করেছেন।
শিকারের ছেলে। আরিফ দৈনিক ইত্তেফাকে বলেন, তাদের কেনা জমি মঙ্গলবার রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে দুটি ব্যাংক থেকে তিন লাখ ও সাত লাখ টাকা তোলা হয়েছে। এর আগে আরও ১০ লাখ টাকা তোলা হয়। জমি রেজিস্ট্রির জন্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়েছেন তারা। তার মায়ের ব্যাগে ২৫ লাখ টাকা ও কিছু পরিবর্তন ছিল। বাকি ২ লাখ টাকা ছিল অন্য বাজারের ব্যাগে।
তিনি আরও জানান, তার মা ইমাম তাজু আহমেদ ও তাদের বড় বাবার শ্যালক জমি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। জাফর একটি অটোরিকশায় ছিল। জাফর গাড়ি চালাচ্ছিল। আরিফ তাদের আগে মোটরসাইকেলে করে তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে রমজান আলী চৌধুরী হাটে আরও কিছু টাকা সংগ্রহ করে। সেখানে পৌঁছে তার মা অন্য নম্বর থেকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ডাকাতির বিষয়টি জানতে পারেন।
মায়ের বরাত দিয়ে আরিফ জানান, রাস্তার মোড়ে তিন যুবক অটোরিকশার সামনে এসে অস্ত্র নিয়ে গাড়ি থামায়। একপর্যায়ে তারা তার মায়ের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। আরিফের দাবি, এর আগে তিনি মোটরসাইকেলে বোনের বাড়িতে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে তিনটি মোটরসাইকেলসহ পাঁচজনকে দাঁড়িয়ে ধূমপান করতে দেখেছেন।
তাদের কাছে টাকা আছে এমন তথ্য জেনে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মনে করেন আরিফ।
অটোরিকশা চালক। জাফর জানান, হঠাৎ তিন যুবক রাস্তার মোড়ে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামাতে বলে। এ সময় তারা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। হাত বাড়ালেই ফোনটা ফেলে দেন। পরে যুবকরা ওই নারী যাত্রীর ব্যাগ ধরে টানাটানি করে। সামশুন নাহারকে ব্যাগ দিতে অস্বীকার করলে তারা তা ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে লুট করা অর্থ উদ্ধারের জন্য তদন্ত চলছে।