পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠি-ভারতকাঠি ফেরি ঘাট এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে একটি ট্রলার ডুবে মারা গেছে। এতে এক শিশু নিহত ও তার মা নিখোঁজ রয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম অর্পিতা বেপারী (৮) এবং শিশুটির মা রীনা বেপারী (৩৫) নিখোঁজ রয়েছে। তারা নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠি গ্রামের শংকর বেপারীর মেয়ে ও স্ত্রী। শংকর বেপারী সপরিবারে দুর্গাপূজার ছুটিতে গ্রামে এসে শ্রীরামকাঠি এলাকা থেকে পূজা দেখে ট্রেলারে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শংকর বেপারী পেশায় ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রহরী। দুর্গাপুজোর ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে আসেন তিনি। সোমবার রাতে শ্রীরামকাঠি এলাকা থেকে পূজা দেখে পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। এ সময় অর্ধশতাধিক যাত্রী ও ৬টি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারটি নাজিরপুর প্রান্ত থেকে ভরতকাঠির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু ওভারলোডের কারণে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে তলিয়ে যায়।
এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় অধিকাংশ যাত্রী সাঁতার কেটে পাহাড়ে উঠতে পারলেও রিনা বেপারী ও তার সন্তান নিখোঁজ হয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ উদ্ধারকারী দল। পরে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুটি অভিযান চালিয়ে রাত ১১টার দিকে নিখোঁজ শিশু অর্পিতার লাশ উদ্ধার করে।
আমি
পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক রায়হানুর আশরাফ জানান, ট্রলার দুর্ঘটনার পর মা ও মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের তদারকিতে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মৃত এক শিশুকে উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ মাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় কেউ গাফিলতি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।